কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: সোমবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ এ ০৫:০৫ PM
কন্টেন্ট: পাতা
চিত্রশিল্পী এস, এম সুলতান
বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এস, এম সুলতান (লাল মিয়া) 1923 সালের ১০ আগস্ট নড়াইল সদর উপজেলার মাছিমদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মেছের আলী। জন্মের কিছু দিনের মধ্যেই তাঁর মা মারা যান। ১৯২৮ সালে তিনি নড়াইল কলেজিয়েট স্কুলে ভর্তি হন। ১৯৪১ সালে হতে ১৯৪৪ সাল পর্যন্ত তিনি কলিকাতা সরকারি আর্ট ইনস্টিটিউটে চিত্র কলায় শিক্ষা গ্রহণ করেন। ১৯৪৮ সালে পাকিস্তানে, ১৯৫০ সালে আমেরিকায়, ১৯৫৩ সালে ইউরোপে তাঁর চিত্র প্রদর্শনী হয়। ১৯৫৩ সালে তিনি নড়াইলে ফিরে আসেন। বিশ্ব বরেণ্য এই শিল্পী ১৯৮২ সালে ২১ শে পদক, ১৯৮৪ সালে ‘‘বাংলাদেশ চারু শিল্পীসংসদ’’ সন্মামনা ও ১৯৯৩ সালে ‘‘স্বাধীনতা পদক’’ লাভ করেন। ১৯৮২ সালে ক্যামব্রীজ বিশ্ববিদ্যলয় তাঁকে ‘‘ম্যান অব এশিয়া’’ ও ১৯৮৭ সালে বাংলাদেশ সরকার ‘‘ আর্টিষ্ট ইন রেসিডেন্ট’’ সন্মানে ভূষিত করে। ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর এই মহান শিল্পী ইহলোক ত্যাগ করেন।
বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের জন্ম ২৬শে ফেব্রুয়ারি ১৯৩৬, তৎকালীন যশোর জেলার অর্ন্তঃগত নড়াইল মহকুমা বর্তমান নড়াইল জেলার মহিষখোলা গ্রামে। পিতা আমানত শেখ ছিলেন কৃষক এবং মাতা জেন্নাতুন নেসা ছিলেন গৃহিণী। শৈশবেই বাবা-মা হারিয়ে অনেকটা সংসার বিরাগী জীবন যাপনে অভ্যস্থ হয়ে পড়েন। সংসারের প্রতি মন ফিরিয়ে আনতে অবিভাবকরা তাকে ১৯৫২ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে বিয়ে করান। স্ত্রী তোতা বিবির বয়স তখন ১২ বছর।
১৯৫৪ সালের শেষভাগে জন্ম নেয় তাদের প্রথম সন্তান হাসিনা খাতুন। সংসারে অভাবের ছোঁয়া লাগায় দিশেহারা হয়ে যোগ দেন মুজাহিদ বাহিনীতে। ২৬শে ফেব্রুয়ারি ১৯৫৯, তদানিন্তন ইপিআর-এ সৈনিক হিসেবে যোগদান করেন। তার ই পি আর ক্রমিক নম্বর ছিল ৯৪৫৯। ১৫ ই নভেম্বর ১৯৬৪, জন্মগ্রহণ করে তার দ্বিতীয় সন্তান শেখ মোঃ গোলাম মোস্তফা কামাল। কিছুদিন পরেই আত্মীয়-স্বজনদের অনুরোধে বিয়ে করেন মৃত শ্যালকের স্ত্রী ফজিলাতুন্নেসাকে। ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধে দিনাজপুর সেক্টরে যুদ্ধরত অবস্থায় আহত হন। যুদ্ধ শেষে তিনি 'তকমা-ই-জং' ও 'সিতারা-ই-হারব' মেডেল লাভ করেন। মার্চ ১৯৭১এ তিনি ছুটি ভোগরত ছিলেন গ্রামের বাড়িতে। পাকিস্তানী বাহিনীর গণহত্যার খবর পেয়ে অসুস্থ অবস্থায় চুয়াডাঙ্গায় ইপিআর-এর ৪নং উইং এ নিজ কোম্পানির সাথে যোগ দিয়ে বিদ্রোহ করেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে। সেক্টর গঠন হলে তাদের উপর ন্যস্ত হয় ৮নং সেক্টরের দায়িত্ব। তিনি নিয়োগ পান বয়রা সাব-সেক্টরে। এই সাব-সেক্টরের অধীনে গোয়ালহাটি, ছুটিপুর ঘাট, ছুটিপুর সেনাক্যাম্প, বরনী আক্রমণে অংশ নেন এবং বীরত্ব প্রদর্শন করেন। বরনীতে নিজের জীবনের ঝুকি নিয়ে সাব-সেক্টর কমান্ডার ক্যাপ্টেন নাজমুল হুদার জীবন রক্ষা করেন। ৫ই সেপ্টেম্বর ১৯৭১, সুতিপুর প্রতিরক্ষা অবস্থানের সামনে ষ্ট্যান্ডিং পেট্রোলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালনের সময় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আক্রমণ নস্যাৎ করে দেন প্রায় একাই। আহত অবস্থায় অধীনস্থ সৈনিকদের নিরাপদে পিছনে পাঠিয়ে দেন এবং শত্রুর মোকাবেলা অব্যাহত রাখার সময় শাহাদাত বরণ করেন। পরবর্তীতে সহযোদ্ধারা তার মৃতদেহ উদ্ধার করে সীমান্তবর্তী যুদ্ধক্ষেত্র কাশীপুরে সমাহিত করে। স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার বীরত্বের স্বীকৃতি স্বরুপ তাকে 'বীরশ্রেষ্ঠ' খেতাবে ভূষিত করে।
কবিয়াল বিজয় সরকার
চারণ কবিয়ালসম্রাট বিজয় সরকার ১৯০৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি নড়াইল সদর উপজেলার ডুমদি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম নবকৃষ্ণ বৈরাগী ও মাতার নাম হিমালয় কুমারী বৈরাগী। কিশোর বয়সেই তিনি গ্রাম্য কবি পুলিন বিহারী ও পঞ্চানন মজুমদার এর সাথে পাচালী গান গেয়ে খ্যাতি অর্জন করেন। ১৯৩৬ সালে তিনি কলিকাতায় গান করতে গেলে সেখানে কবি গোলাম মোস্তফা বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম, পল্লী কবি জসীমউদ্দিন, আববাস উদ্দিন, সাহিত্যিক হাবিবুল্লাহ বাহার, ধীরেন সেন প্রমূখের সাথে তাঁর পরিচয় ঘটে । ১৯৮৫ সালের ৪ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তিনি প্রায় চারশতাধিক গান রচনা করেন।
জারী সম্রাট মোসলেম উদ্দিন বয়াতী
চারণ কবি জারী সম্রাট মোসলেম উদ্দিন বয়াতী ১৯০৪ সালে নড়াইল সদর উপজেলার তারাপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম আব্দুল ওয়াহেদ ও মাতার নাম মুসলিমা বেগম। বাল্যকাল হতেই তিনি সংগীতানুরাগী ছিলেন এবং জারী, ভাব, মুর্শিদী ও পয়ার ইত্যাদি গান গাইতেন। তৎকালের বিখ্যাত সব গায়কের সাথে তিনি গানের পাল্লা দিয়ে খ্যাতি অর্জন করেন। তাঁর গান শুনে প্রায় সকল দর্শকই কান্নায় ভেঙ্গে পড়তেন। ১৯৯০ সালের ১৯ আগস্ট নিজ গ্রামে এই মহান গায়ক মৃত্যুবরণ করেন।