কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: মঙ্গলবার, ৬ আগস্ট, ২০২৪ এ ০৯:৫৫ PM
কন্টেন্ট: পাতা
ভাষা
ভাগীরথী এবং মধুমতীর মধ্যবর্তী অঞ্চল হওয়ায় নদীয়া শান্তিপুর অঞ্চলের ভাষার সাথে নড়াইল সদর উপজেলার ভাষার কিছুটা মিল আছে। খুলনা, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ জেলার ভাষার সাথে এই উপজেলার ভাষার বেশ মিল রয়েছে। ভৌগলিক কারণে প্রতি ১৫/২০কিলোমিটার দূরত্বের ব্যবধানে ভাষা ব্যবহার ও উচ্চারণে যথেষ্ট পার্থক্য দেখা যায়। প্রমিত চলিত ভাষার সাথে নড়াইল সদর উপজেলার আঞ্চলিক ভাষার কিছু পার্থক্য নিচের সারণীতে তুলে ধরা হলোঃ
| প্রমিত চলিত ভাষায় উচ্চারণ | নড়াইল সদরের আঞ্চলিক উচ্চারণ | ক্রম | প্রমিত চলিত ভাষায় উচ্চারণ | নড়াইল সদরের আঞ্চলিক উচ্চারণ |
| করেছি | করিছি | ০১ | ভালো আছিস? | ভালো আছির? |
| খেয়েছি | খাইছি | ০২ | ভাত | বাত |
| দিয়েছি | দিছি | ০৩ | ভিক্ষা | বিক্কে |
| রেখেছি | রাখিছি | ০৪ | পথ | ফত |
| গিয়েছি | গেছি/গিছি | ০৫ | টাকা | টাহা |
| দেখেছি | দেখিছি | ০৬ | কোনটা | কোনডা |
| বলেছি | কোইছি | ০৭ | ভাইটি | ভাডি |
| বলিসনি | কোইসনেই/ কোলিনে | ০৮ | বোন/ বোনটি | বুনডি |
| দ্যাখেন/ দেখেন | দ্যহেন/ দ্যহে/ দেহে | ০৯ | এবার | ইবারা/এবারা |
| দেখছি না | দেকতিছি না | ১০ | কথা | কতা |
| এখন | এ্যহোন | ১১ | কোন্ জায়গা | কোন্ জাগা/ কুহানে |
| যেতে | যাতি | ১২ | দুপুর | দুফোর |
| পারবো না | পারবোনানে | ১৩ | বুঝতে | বুজতি |
| পারবে না | পাইরে দেবেনানে | ১৪ | পারছিস না | পারতিছিস না |
| পারছি না | পাইরে দেবোনানে | ১৫ | খুব ভালো করেনি | ম্যালা ভালো করিনেই |
| খেলতে যাবি না? | খেলতি যাবি? | ১৬ | গোছল (স্নান) | নাওয়া |
| সকাল | বিয়ান | ১৭ | গোছলে যাই | নাতি যাই |
| শাশুড়ি | শাউড়ি | ১৮ | ছোট শিশু | ন্যাদা/ গ্যাদা |
| গোছল করব না | নাবোনানে/ নাবোনানি | ১৯ | খাবো না | খাবোনানো |
| করব না | করবোনানে | ২০ | দোবো | দিবানি |
| দেখিস | দেহিসক্যনে | ২১ | পারবি না/ পারবে না | পারবিনানে |
| আয় | আইগো | ২২ | চৈত্র মাস | চৈত মাস |
| বৈশাখ | বৈশেক | ২৩ | রোদ/ রোদ্দুর | রৌদ |
| হবে না | য়োবিনানে | ২৪ | করে দিয়েছে | কৌরেদেছে |
| করে দেবে | কৌরে দিবেনে | ২৫ | করে দেবে না | কৌরে দিবিনানে |
| হ্যা | হয় | ২৬ | মেয়ে | ছেমড়ি |
|
|
| ২৭ | ছেলে | ছ্যামড়া |
সাহিত্য-সংস্কৃতি
কোন এলাকার সংস্কৃতির মাঝে ঐ এলাকার ব্যক্তি-পরিবার-গোত্র-সমাজ তথা জাতির চরিত্র ফুটে ওঠে। সেজন্যই সংস্কৃতি হলো জাতির দর্পন। নড়াইল সদর উপজেলা সাংস্কৃতিক ভাবে সমৃদ্ধ। এই উপজেলার মানুষ সাধারণভাবে অসাম্প্রদায়িক, শান্তিপ্রিয় এবং অতিথি পরায়ন। প্রাচীনকাল হতে খেলাধুলা-সাহিত্য-গীত-চিত্রকলা ইত্যাদি চর্চার জন্য এই উপজেলা সুবিদিত। বিশ্ববিখ্যাত চিত্রশিল্পী এসএম সুলতান এই উপজেলা সন্তান। অভিনয়ের ক্ষেত্রে সন্ধারায় এ উপজেলার মানুষ, সুচিত্রা সেন আশৈশব বেড়ে ওঠেছেন এখানে। সুরকার ও কন্ঠশিল্পী কমল দাস গুপ্ত এ জেলার মানুষ। সংগীতে বিশেষ করে কবি গানের নমন্য পুরুষ বিজয় কৃষ্ণ অধিকারী বা বিজয় সরকার এবং জারী সম্রাট চারণ কবি মোসলেম উদ্দিন এ জেলার মানুষ। প্রচীন কবি ও সাহিত্যিক গুরুনাথ সেনের বাড়ী এখানে।
নড়াইল সদর উপজেলার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নাটক-যাত্রা-নৃত্য-সঙ্গীত-আবৃত্তি আয়োজিত হয়। উল্লেখযোগ্য লোকজ উৎসবের মধ্যে রয়েছে মেলা-পার্বণ-জারি গান-নৌকা বাইচ-ষাড়ের লড়াই ইত্যাদি। ক্রিড়ার মধ্যে রয়েছে ফুটবল, ক্রিকেট, টেবিল টেনিস, লন টেনিস, হ্যান্ড বল, হা-ডু-ডু ইত্যাদি খেলা।
নড়াইর সদর উপজেলার উল্লেখযোগ্য লোকজ উৎসব
| ক্র.নং | উ্ৎসব/ আয়োজন |
| ০১ | নৌকা বাইচ |
| ০২ | ষাড়ের লড়াই |
| ০৩ | ঘোড়ার গাড়ি দৌড় |
| ০৪ | সুলতান মেলা |
| ০৫ | মোমবাতি প্রজ্বালন |
| ০৬ | মুলিয়ার মেলা |
| ০৭ | হিজলডাঙ্গার রথযাত্রা |
| ০৮ | মুকুল মেলা |